রবিবার, ৩০ মে, ২০১০

কাচেঁর পাখি

একটি পাখি
দুইটি পাখি
নিত্য করে
ডাকা ডাকি।

কাঠের খাচাঁয়
কাচেঁর পাখি
চেয়ে চেয়ে
শুধুই দেখি।

আসল পাখি
মেলেছে ডানা
কাচেঁর পাখির
উড়তে মানা।

ডুকরে কাঁদে
বাড়ীর ছাদে
এই শহরের
নীরব ফাঁদে।

অপরাধী

এক
রাত ১২টা বেজে কিছূ বেশী, লোড শেডিং, আধো আলো আধো অন্ধকারে মেয়েটির মুখটা ভালমত দেখা যাচ্ছে না। যেটুকু বোঝা যায় তাতে ওর চেহারায় আতংক আর অসহায়ত্বের ভাব। উৎসুক কিছু লোক ভীর জমিয়ে আছে, কিন্তু কেউ সাহস করে ওকে কিছু বলছেনা পাছে কোন ঝামেলা হয় এই ভয়ে। জটলাটা বেশ ভালই জমেছে, মানুষের কোলাহর শুনে পলাশ এসে একটু উকি দিচ্ছে আবার চলে যাচ্ছে, কিছুক্ষণ পর পলাশ ভীড় ঠেলে ভেতরে ঢুকল।

- এই মেয়ে নাম কি তোমার? কোন জবাব নেই, নীরবতা
কোন ভয় নেই তোমার নামটি বল, কোথায় থাক?
- কোথায় যাবে বল? আমরাই তোমাকে পৌছে দেব,
কোন কথা নেই, বাম হাতের পিঠ দিয়ে মুখে জমে থাকা রক্ত মুছে আবার নীরব হয়ে গেল শুধু মটির দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবছে।

দুই

রাত বাড়ছে, মানুষের ভীড় কিছুটা কমে এসেছে, কিন্তু মেয়েটা ঠিক সেখানেই বসে আছে। শোন…
- তুমি এখানে নিরাপদ, তোমাকে কেউ কিছু বলবে না, আমার কাছে বলতে পারো কি হয়েছে তোমার, এখানে কেমন করে এলে? কোথায় যাবে? আর তোমার এই অবস্থা কি করে হল?
অবশেষে মুখ খুলল সে
০ আমার নাম নাদিয়া,
আবার কান্না জুড়ে দিল
হঠাৎ করে মুরব্বী গোছের একজন বলল
= আহা কানতাছ কেন মা, কান্দাকান্দি করার মত কিছু হয় নাই, বাড়ীর ঠিকানা দেও তুমারে দিয়া আহি।
কিছু ক্ষণ পর ….
= মুখটা একবারে শুকনা সারাদিন কিছু খায় নাই মনে হয়।
লোকটা এবার পলাশের দিকে তাকিয়ে
= আরে মিয়া তুমি তো দেখতাছি মাইয়াডারে পুলিশের নাহান জেরা করতাছ? একবার কি জিগাইছ পেটে দানাপানি আছে কিনা? খালি তামাশা দেহে।
লোকটির কথায় নিজেকে অপরাধী মনে হল, আসলেই খাবারের ব্যাপারটা আমার মাথায় আসল না!
এর মধ্যে কেউ একজন পাউরুটি ও কলা নিয়ে হাজির।
এবার মেয়েটির দিকে তাকিয়ে লোকটি বলল- আচ্ছা কওতো মা কই যাইবা?
জানিনা, মেয়েটির জবাব
সবাই যেন বাকরুদ্ধ! এত বড় (বয়স আনুমানিক ১৮-২০) মেয়ে এত রাতে কোথায় যাবে তাও জানে না! সবাই এম ভাবে তাকাল যেন চিড়িয়াখানার কোন জন্তুকে দেখছে।
আবার লোকটি বলল মা তুমি আমারে তোমার বাপ মনে করতে পার, আমারে কও কী হইছে তোমার। লোকটি ধীরে ধীরে মেয়েটিকে প্রশ্ন করছে, মেয়েটি কান্নাজড়িত কন্ঠে অল্প করে তার উত্তর দিচ্ছে। আর পলাশ ভীড় ঠেলে বাইরে দাড়িয়ে আকাশ দেখছে।

তিন
রাত আনুমানিক তিনটা পলাশ, মুরব্বি লোকটি ও তার সাথের একজন বাদে বাকী সবাই যে যার মত চলে গেছে।
এবার মেয়েটা কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে বসে আছে
আচ্ছা, আপনি কোথায় থাকেন? আপনার বাবার নাম কি? আপনার এ অবস্থা কি করে হল? এখানে কি করে এলেন? এক নাগারে প্রশ্ন গুলো ছুড়ে দিল পলাশ।
এমন সময় লোকটি বল
= দুর মিয়া দেখতাছ না মাইয়াডা অসুস্থ, এত কি জিগাও? পারলে অর থাকার ব্যবস্থা কর রাইত কম অয় নাই।
পলাশ আবার লজ্জিত বোধ করল
=মিয়া কি ভাবতাছ?
-না কিছু না, আচ্ছা চাচা, আপনার বাড়ীতে রাখা যাবে?
০ আমার জন্য আপনাদের ভাবতে হবে না, আমি সকাল হলে চলে যাব, রাত প্রায় শেষ।
সবাই যেন চমকিত হল, এত ক্ষণে মেয়েটি কথা বলল
= তুমার কতায় ত শিক্ষিত মনে হয়, তুমার এই অবস্থা……….
০ কিছু হয় নি। আপনার আমার জন্য অনেক ক্ষণ ধরে এখনে আছেন, আমি সুস্থ আছি, আপনাদের ধন্যবাদ। আমি চলি।
= তাইলে তুমার গায়ে রক্ত কিসের? এত রাইতে কই যাইবা?
০ বাসষ্ট্যান্ড, সকালে ফাস্ট ট্রিপেই ঢাকা চলে যাব, আমি ঢাকাতেই থাকি।
- এখানে এসেছিলেক কেন? জিজ্ঞাসু দৃষ্টতে তাকায় পলাশ
০ এমনি, বাসা রাগ করে।
= রাস্তায় গাড়ি একসিডেন করছে?
মেয়েটি কোন জবাব দেয় না।

চার
ফযরের আযান দিতে অল্প কিছুক্ষন বাকী, লোকটা মসজিদে যাবার আগে মেয়েটির উদ্দ্যেশে
= মা, তুমার কাছে টেকা আছে গাড়ী ভাড়া? না দিমু কিছু? না মানে দরকার হইলে ধার নেও পরে এইদিকে আইলে ফেরৎ দিও?
০ জ্বি না চাচা মিয়া লাগবে না, আপনাকে ধন্যবাদ
- আমার বাসা থেকে ফ্রেশ হয়ে নিন কাছেই, মুখে রক্তের দাগ লেগে আছে তাই বললাম। অনুযোগের সুরে বলল পলাশ
০ লাগবে না। (বেশ ধারালো কন্ঠে এবার বলল কথাটি)।
আপনি সারা রাত জেগে ছিলেন এখন বাড়ীতে গিয়ে একটু ঘুম দিন। এখন কেউ নেই, দু’জনকে এভাবে দেখলে আপনাকে খারাপ ভাববে। আসি। এই বলে সে বাস স্ট্যান্ডের দিকে হাটতে লাগল।

পাঁচ
পর দিন সকালে, বেশ দেরী করেই ঘুম থেকে উঠল পলাশ, নাস্তা সেরে দোকানে গেল চা খেতে। দোকান বলল
: ভাইজান খরব হুনছেন?
- কি?
: কাইল রাইতে যে মাইয়াডা রাস্তায় বইয়া আছিল হেয় মইরা গেছে
কথাটা শুনেই পলাশ কেমন যেন হয়ে গেল, আবার নিজেকে সামলে বলল কিভাবে?
: সকালে নদীত ঝাপ দিয়া মরছে, পুলিশ আইয়া লাশ লইয়া গেছে।
পলাশ কোন কথা না বলে বাড়ীর দিকে হাটতে থাকে।
বাসায় এসে কারো সাথে কোন কথা না বলে চুপ করে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে শুয়ে রইল।

ছয়
তিন দিনপর..
দুই দিন ধরে পলাশ নিরুদ্দেশ, অনেক খোঁজা খুঁজি করেও কোন লাভ হয়নি।
সকাল বেলা পলাশের মা ওর ঘরে পড়ার টেবিলের ড্রয়ারে একটি ভাজ করা কাগজ পেলেন, সেটা ছিল চিঠি, চিঠিটা পড়তে লাগলেন তিনি………..

মা,
আমি চলে যাচ্ছি, আর আসব না, কালরাতে যে মেয়েটা সারা রাত রাস্তায় বসে ছিল, সে আমার কাছেই এসেছিল ও আমাকে ভালবাসে আমিও তাই। ওর নাম নাদিয়া। নাদিয়ার বাবা ওকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছিল তাই সেদিন ও পালিয়ে আমার কাছে আসছিল আর আমি রখন তোমাকে নিয় হাসপাতালে ছিলাম। নাদিয়ার আসতে আসতে রাত প্রায় ১১টা বেজে গিয়েছিল কিন্তু আমি তখনো সেখানে পৌছাতে পারি নাই, ওকে একা পেয়ে কিছু জানোয়ার ওকে………..।
আমি যখন বাসষ্ট্যান্ড গেলাম তখন দেখি নাদিয়া চুপ করে এক কোণে বসে কাদঁছে, জিজ্ঞেস করতেই ও সব কিছু আমাকে বলল…..
আমি ব্যাপারটা সহজ ভাবে নিতে পারলাম না। নাদিয়কে ফিরে যেতে বললাম। নাদিয়া স্বর্গে ফিরে গেছে এই নিষ্ঠুর পৃথিবী ছেড়ে। ওর মৃত্যুর জন্য আমিই দায়ী। আমি অপরাধী, তাই একজন অপরাধীর মত জীবন থেকে পালিয়ে বেড়ানো জন্যই, আমি চলে যাচ্ছি …। কোন নির্দিষ্ট গন্তব্যে নয়।

তোমার অপরধী ছেলে..
পলাশ

(চিহ্ন ঃ -পলাশ, ০নাদিয়া, =মুরব্বি, :দোকানদার)

জলপরী- ৩

চল আজ,
দুর আকাশের ঐ সীমানায়
হারিয়ে যাব আজ দু’জনায়
সঙ্গী হবে মেঘের ভেলা
উড়ব মোরা সারা বেলা
ঐ না মেঘের দেশে
শুধু ভালবেসে।

রাখব তোমায় হৃদয় মাঝে
বাসব ভাল সকাল সাঝে
জোৎন্সা ঝরা সন্ধ্যা দেব
শিশির ভরা ঘাস,
জোনাক হয়ে আলো দেব
তোমায় বার মাস।

হাসছ কেন?
সত্যি বলছি মিথ্যা না,
ভালবাসা দেব মেখে
হয়ে আমি জোছনা
শুধু একটু ভালবাস না.

আবার কেন হাসো?
বল, আমায় ভালবাস?

বন্ধু তুমি

বন্ধু তুমি অন্ধ হলে
হব তোমার দৃষ্টি
বন্ধু তুমি ঝর্ণা হলে
আমি হব বৃষ্টি

বন্ধু তুমি পাখি হলে
আমি হব তারই নীড়
সন্ধ্যা হলে ফিরবে নীড়ে
সুখ গুলো সব করবে ভীড়

বন্ধু ত‍ুমি আকাশ হলে
আমি হব নীল
মেঘের ভেলায় ভাসিয়ে দেব
স্বপ্ন অনাবিল ।।

তুমি বন্ধু মাঠ হলে
আমি হব সবুজ ঘাস
আমার বুকে উঠবে জেগে
থাকবে পাশে বার মাস

স্বপ্ন


স্বপ্ন তরী ভাসল জলে
ধরছি আমি তারই হাল,
উতলা জলে তরী ঢোলে
ঝড়ের তোপে ছিঁড়ল পাল

মরব তবু ছাড়ব না যে
শক্ত হাতে ধরছি হাল


ঝড়ের মাঝে তুমি এলে
বাড়িয়ে দিলে প্রেমের হাত
ধরতে যাবো হাতটি তোমার
এমন সময় উঠল ঢেউ
জলের স্রোতে যাচ্ছি ভেসে
ধরল না আর আমায় কেউ

এক পলকের জন্য তুমি এসে
আবার কেন গেলে তুমি
ঝড়ের মাঝে ভেসে?


ডুবছি আমি জলের তলে
স্বপ্ন রাজ্যের অন্ধকারে
এক ফোঁটা নেই আলো
একা আমি জলের তলে
লাগছে না আর ভালো

কেমন করে থাকব একা
একটু আমায় বলো


মুখটি গুজে কাঁদছি আমি
এই আমি আজ একা
আবার তুমি হঠাৎ করেই
আমার দিলে দেখা

ওঠ তুমি স্বপ্নবাজ
তুমি মুক্ত আজ

মুক্ত আমি?
যাই, আমার ছোট্র কুড়েঁ ঘরে
সন্ধ্যে হলেই যেথায় এখন
জোনাক পোকা আলো নিয়ে খেলে

আপন মনে সন্ধ্যা হলেই
জোনাক আমি ধরি
বিদায় জলপরী

শনিবার, ২৯ মে, ২০১০

প্রিয় বন্ধুর কাছে খোলা চিঠি

প্রিয় বন্ধু বরেষূ,,,,,
জানি ভালই আছ, সর্বদা ভাল থাকবে আশাকরি, আর আমি? ভাল……! বলতো আজ কতদিন আমাদের দেখা হয় না? জানি পারবেনা, পাঁচ বছর খুব বেশী না অন্তত তোমার কাছে তো নয়ই কারণ? না হয় নাই জানলে
বন্ধু তোমার মনে আছে দু’টাকার ঝালমুড়ি কিনে দু’জনে ভাগাভাগি করে খাওয়ার কথা? জান.. আজ ফাস্ট ফুডের কালচারেও আমি সেই ঝালমুড়ির স্বাদ খুজি কিন্তু পাইনা তুমি কি পাও? আচ্ছা এখন তো বর্ষাকাল, আচ্ছা তোমার মনে আছে তুমি আমার কাছে একগাছি কদম চেয়েছিলে আমি গাছে উঠতে পারিনা তাই সেদিন তোমাকে বৃষ্টিভেজা কদম ফুল দিতে পারিনি তাই তুমি আমার সাথে আড়ি দিয়েছিলে
তুমি বড় অভিমানি ছিলে…………….
তুমি জানলে অবাক হবে আমাদের বাড়ীর আঙ্গিনায় এখন একটি কদম গাছ আছে তাতে কদম ফুল ধরেছে তুমি নেই তাই আজ কদম ফুল দেখে আমার কোন উচ্ছাস নেই শুধু মনে হয়, নে হয় তুমি নেই তাই কদমগুলি তার আবেদনতা হারিয়েছে সময় করে এসো আমার বাড়ী, আমার গাছের সব কদম আমি তোমায় দেব, নেবে তুমি?…………….

আচ্ছা বন্ধু মনে আছে তোমার? আমার প্রথম স্কুল ফাকি দেবার সেই দিনটির কথা?, শুনেছি সেদিন তোমার নিষেধ সত্ত্বেও স্কুল ফাঁকি দেওয়ায় তুমি খুব কেদেঁছিলে, কেন? তা আজও আমার কাছে রহস্যই রয়েগেছে তুমি সত্যিই যদি সেদিন কেঁদে থাকো তাহলে আজ কেন আমি মাঝ পথে লেখাপড়ার ছেড়ে দিয়েছি জেনেও কাঁদনি, নাকি কেঁদেছ? তুমি জানো? আমি আজও বৃষ্টি হলেই ভিজি কারণ? তুমি বৃষ্টি খুব পছন্দ করতে, বৃষ্টি হলেই বারান্দার গ্রীলের ফাঁক দিয়ে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টিকে ছুয়ে দেখতে আর বলতে “হে বৃষ্টি তুমি আমার মনের সব দুঃখ ধুয়ে নিয়ে যাও, এখনও কি তেমনই বৃষ্টিকে ছুঁয়ে দেখ? আমি আজও বৃষ্টিতে ভিজি, তোমার ছোয়া পাবার আশায়
তুমি খুব বৃষ্টি বিলাসী ছিলে…………………….

আচ্ছা তোমার মনে আছে সেই ছেলেটির কথা? যে কিনা তোমায় ভালবাসত পাগলের মত… ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব ছিল তাই তুমি আমার সাথে কথা বলনি অনেকদিন হয়ত সেই অভিমান আজও তোমার কাটেনি অথচ আমিও না তোমাকে রাগানোর জন্য ওর সাথে আরো বেশী করে মিশতাম, তুমি রাগলে চৈত্রের ভর দুপুরেও শিশির ভির করত তোমার নাকের ডগায়………….. আর আমি তা মুছে দেবার জন্য কতইনা চেষ্টা করতাম কিন্তু তোমাকে ছোবার সাহস হতনা তুমি কি তা বুঝতে?
তোমার মনে আছে সেই চিঠির কথা, যেখানে প্রাপক ছিলে তুমি আর প্রেরক আমি, সত্যি বন্ধৃ বিশ্বাস করো সেই চিঠি আমি তোমাকে লিখিনি লিখেছ অন্য কেউ কিন্তু তার দায় ভার নিতে হয়েছে আমাকে যা আমাকে আজও কাদঁতে সাহায্য করে মনে পড়ে? আমাকে কাদঁতে দেখে তুমি বলেছিলে “চোখে জল খুব মূল্যবান জিনিস এটা অযথা ফেলতে নেই, তাহলে সময় মত এই জল পাবেনা” তোমার কথাই আজ সত্য আমার চোখে আর জল আসেনা, শুধু বুকটা ভারী ভারী লাগে আজ মন খারাপ থাকলে কেউ পাশে বসে দুষ্টুমির ছলে মন ভালো করার চেষ্টা করে না
তুমি খুব……………

আজ তোমাকে খুব মনে পড়ছে, তোমার?
আজ থেকে পাঁচ বছর আগে তুমি আমাকে একটি কার্ড উপহার দিয়ে ছিলে কিন্তু আমি সেটা গ্রহন করিনি কেন? সেটা না হয় নাইই জানলে আমার উপর অভিমান করে সেই কার্ডটি তুমি ছিঁড়ে ৭৬ টুকরো করেছিলে আর চোখের জলে চোখ ভাসিয়ে চলে গেলে আর ফিরে আসনি তুমি শুনে হয়ত অবাক হবে তোমার ছিঁড়ে ফেলা সেই কার্ডের টুকরো গুলো আজও আমি যক্ষের ধনের মত আগলে রেখেছি আমার কাছে তুমি সেদিন চলে যাবার পর সেগুলো আমি রাস্তা থেকে কুড়িয়ে এনেছিলাম তোমার সেই স্মৃতি আমি আজও রেখেছি যত্ন করে তুমি চাইলে তা নিয়ে যেতে পার, নেবে?
এখনও তোমার কথা মনে হলে সেগুলোর ওপর হাত বুলাই, অনুভব করি তোমার স্পর্শ
শুনেছি সেদিন বাসায় গিয়ে তুমি কেঁদেছিলে, ঘরের দরজা বন্ধ করে গ্লাস ভেঙ্গে নিজের হাত রক্তাক্ত করেছিলে কেন, সেই প্রশ্ন আজ করব না, শুধু বলতে চাই তুমি কেদেঁছ এক দিন, আর আমি………


যখন সে কথা ভাবি নিজেকে খুব বড় অপরাধী মনে হয়, তুমি বিশ্বাস করো আমি কখনো তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি, যা হয়েছে তা শুধুই তোমার বোঝার ভুল অথবা তোমাকে বোঝাতে আমার ব্যর্থতা তাই সেই ব্যর্থতার দায়ভার আমি আজও বহন করছি সে দিনের পর থেকে তুমি আর আমাকে সহ্যই করতে পারনা আমি কি খুব বড় অপরাধ করে ফেলেছি? নাকি অন্য কোন কারণ? পারলে আমাকে জানাবে সুখে থাকো, সবসময় সবার আদর ভালবাসার মধ্যে থাকো

তোমার সুন্দর ও সুখী জীবনের প্রত্যাশায়
আমি…………………..

জলপরী- ২



পরী তুমি কাদঁছ ?
তাই কাদেঁ প্রজাপতি
ফুলে ফুলে বসবেনা সে
তুমি না হাসো আর যদি

মৌ মাছিও খায় না মধু
চেয়ে চেয়ে দেখে শুধু
তোমার চোখের জল,
তোমার চোখের জল দেখে
সব হল নিষ্ফল

তুমি হাসলে, হাসবে সবে
বৃষ্টি হবে সবুজ বনে
আকাশ বলে মনে মনে
রং ধনুর ঐ টিপ দেব
তোমায় আমি সযতনে

একটু খানি হাসো
বলো আমায় ভালবাসো ?

জোনাকিরা দিচ্ছে আলো
তারা তোমায় বাসে ভালো
কাদঁছ কেন একটু বল
মেঘের সাথে ভেসে
চলো পরীর দেশে যাই,

আছে সেথায় পরী,
তারার মালা দেব তোমায়
রুপোর থালা ভরি

দেখতে তোমার হাসি
আমি দিতে রাজি ফাঁসি
আমি তোমায় ভালবাসি

জলপরী- ১

ঘুমের ঘরে মনের পরে
থাক সারাক্ষণ
সব সময়েই থাক পাশে
হয়ে আপনজন

বাস্তবে তো দেওনা দেখা
নিঝুম রাতে বল কথা
স্বপ্ন দেখাও মোরে
শুধুই ঘুমের ঘরে

কে তুমি?
কোথা থেকে আসো?
কেন তুমি এত বেশী
আমায় ভালবাস?

ধরতে গেলে দেওনা ধরা
করলে আমায় পগল পারা
রাত কাটে না তোমায় ছাড়া
এখন কিযে করি

কাছে আসো একটু ধরি
ওগো জলপরী……….

তুমি……
স্বপ্নে আসো
স্বপ্নে থাকো
স্বপ্নে বসত করো
বাস্তবেতে কাছে আসো
হাতটি আমার ধরো

হঠাৎ করেই উধাও হলে
আমায় পাগল করে গেলে
তোমার দেখা নাই
বলো কোথায় আমি তোমায় পাই?

না হয় তুমি স্বপ্নেই আসো
তবুও আমায় ভালবাস
প্লিজ তোমার হাতে ধরি
কাছে এসো আমর জলপরী

কাব্য ও কবিতা

-আমি কবিতা, তোমার কবিতা তুমি কাব্য আমি কবিতা
=তবে যে আমাকে নীল বলে ডাকলে?
-হ্যা, আমি তোমাকে নীল বলেই ডাকবো
=কেন আমাকে তুমি কাব্য বলেই তো ডাকতে পারো
-না
=কেন?
-কারন আমি কবিতা আর তুমি কাব্য
= তাতে কি?
-দুটি শব্দ একই অর্থ এই দুটি শব্দ রেল লাইনের মত সারা জীবন একসাথে থাকলেও কখনো তাদের মিলন হয় না
=ঠিক আছে আমি নীল আর আমিও কিন্তু তোমাকে কবিতা বলে ডাকবো না,
-তাহলে কি বলে ডাকবে?
=পরী…


-নীলপরী? ভালই হবে দুজনের নামের অনেক মিল, তোমার পছন্দ আছে
=না
-কি না?
=তুমি নীল পরী না, তুমি জলপরী
-ও তাই? আমি জলপরী, আর তুমি সাগরের নীল জল সারা দিন তোমার বুকে ভেসে বেড়াব তোমার সাথে আলিঙ্গন করে থাকব সবসময় অথবা তুমি নীল আকাশ হবে আমি সারাদিন তোমার বুকে উড়ে বেড়াব আচ্ছা তুমি তীর হবে আমি তোমার বুকে ঢেউ হয়ে আছরে পরব?
= কিন্তু তাতে তোমার ঢেউয়ে তোরে তীরের মানুষ গৃহহারা হবে
- তাহলে তুমি মাটি হও আমি বৃষ্টি হয়ে তোমার মাঝে মিশে যাব
= হা হা হা
- হাসছ যে?
= আমার বুক ক্ষত বিক্ষত করতে?
- কিভাবে?
= বৃষ্টির সাথে শিলা পড়ে আর শিলার আঘাতে মাটির বুক ক্ষত বিক্ষত হয়
- তাহলে দরকার নেই আমার বৃষ্টি হবার, শুধু তুমি আমার হলেই চলবে
= তাই?
- হ্যা, আচ্ছা তুমি জোৎস্না বৃষ্টি দেখেছ?
= হ্যা অনেক বার, হঠাৎ করে জোৎস্নার কথা কেন?
- এমনি এই শোন, তুমি সবুজ ঘাস হও না আমি পুর্নিমার আলো হয়ে তোমার সাথে কথা বলতে আসব
= আর যখন মানুষ আমাকে মাড়িয়ে যাবে তখন? যখন আকাশে মেঘ থাকবে তখন তুমি কিভাবে আসবে?
- তবে কি আমি তোমার ভালবাসা পাব না?
= কেন? আমিতো তোমাকে ভালবেসে ফেলছি
- তাহলে বল ভালবাসি
= ভালবাসি, ভালবাসি, ভালবাসি……… আচ্ছা আমি তোমাকে একটু ছুতে পারি?
- ঠিক আছে তবে আগে তুমি ঘুম থেকে ওঠো
= তুমি কি পাগল? আমিতো জেগেই আছি
- না তুমি ঘুমিয়ে আছ
=তার মানে আমি স্বপ্ন দেখছি?
- হ্যা স্বপ্ন, তবে তুমি আমাকে যদি সত্যিই ভালবাস তাহলে আমাকে বাস্তবে খুজে পাবে, আমকে পাবার জন্য চেষ্টা কর পাবে কারণ আমি তোমার জন্যই জন্ম নিয়েছি


সকাল

ঠল ফুটে ভোরের আলো
পাপড়ি মেলে ফুটছে ফুল
পাখির ছানার কিচিরমিচির
খাবার জন্য হুলস্থুল

ঘাসের ডগায় শিশির কণা
রোদের আলোয় দেয় ঝলক
ছোট্ট খোকা দেখছে চেয়ে
অবাক চোখে নাই পলক

----------------------------- নীল (অনু) কাব্য